নিজস্ব সংবাদদাতা
পবিত্র মাহে রমজান ও ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ শহরের যানজট ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম সেলিম ওসমানের প্রতিশ্রæতি অনুযায়ী ২৫ লাখ টাকার চেক প্রদান করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টায় বিকেএমইএ এর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজলের নেতৃত্বে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেলের হাতে এই ২৫ লাখ টাকার চেক তুলে দেন। ২৫ লাখ টাকার মধ্যে বিকেএমইএ ১০ লাখ, এনসিসিআই ১০ লাখ এবং সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমানের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকাসহ মোট ২৫ লাখ টাকা প্রদান করা হয়। টাকাগুলো পবিত্র মাহে রমজান মাসে শহরে যানজট নিরসনে কমিউনিটি পুলিশিং এর মাধ্যমে ব্যয় করা হবে। গত বছর রমজান মাসে একই ভাবে ১৫ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছিলো। এদিন চেক প্রদানকালে নারায়ণগঞ্জের যানজট বেড়ে যাওয়া, যাত্রীবাহী পরিবহনের নৈরাজ্য, চাষাঢ়া, কালিরবাজার, ২নং রেলগেট, পঞ্চবটি, ফতুল্লা, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড ও আদমজীসহ বিভিন্ন স্থানের অবৈধ স্ট্যান্ড ও অবৈধ পার্কিংসহ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এসময় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল বলেন, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান অনেক উদার মনের মানুষ। তিনি নিজ উদ্যোগেই আমার সাথে যোগাযোগ করে অনুদানের কথা বলেছেন। তিনি আমাকে টাকার পরিমাণের কথা জিজ্ঞাসা করলে আমি উনাকে গত বছরের তুলনায় ২০ লাখ টাকার কথা বলেছিলাম। উনি আমাকে ২০ লাখ টাকার সাথে আরও ৫ লাখ যোগ করে ২৫ লাখ টাকা অনুদানের কথা বলেছেন। তিনি আরও বলেন, রমজানকে সামনে রেখে এই শহরকে যেন যানজটমুক্ত রাখা যায় ও নির্বিঘেœ যেন সবাই চলাচল করতে পারে সবদিক বিবেচনা করে আমরা বিভিন্ন স্পটে ট্রাফিক পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য কমিউনিটি লোকজনকে দায়িত্ব দিবো। সবদিক থেকে বিবেচনা করলে এটা একটা ভালো উদ্যোগ।এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, বিকেএমইএ এর সহ-সভাপতি (অর্থ) মোর্শেদ সারোয়ার সোহেল, এনসিসিআইয়ের পরিচালক সোহেল আক্তার সোহান, সাবেক পরিচালক ফারুক বিন ইউসুফ পাপ্পু, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আমীর খসরু, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) চাইলাউ মারমা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. তরিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মো. সোহান সরকারসহ পুলিশ প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তারা। এরআগে ৯ মার্চ নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের সাথে নারায়গঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেলের সাথে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হয়। আলোচনা শেষে সেলিম ওসমান শহরের যানজট ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে ২৫ লাখ অনুদান প্রদানের ঘোষণা দেন। সেদিন সভা শেষে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান বলেছিলেন, প্রতিবারই রোজার সময় এলাকার মানুষজন যেন স্বস্তিতে থাকতে পারে তার জন্য আমরা ব্যবসায়ীরা কমিউনিটি পুলিশের মাধ্যমে পুলিশকে সহযোগিতা করে থাকি। তাতে কিছু লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়। রোজার মাসটা যেন তারা ঠিকমতো চলতে পারে এবং তাদের মাধ্যমে আমরা যেন মানুষকে শান্তি দিতে পারি সেই প্রচেষ্টা করে থাকি। তিনি আরও বলেছিলেন, অন্যবারের তুলনায় এবার আমাদের চাপটা বেশি। তারপর যদি বৃষ্টি বাদলা চলে আসে তাহলে যানজট আরও বেড়ে যাবে। মানুষের কোনো রকম যেন অসুবিধা না হয় আর মানুষ যেন স্বস্তিতে ঈদ উদযাপন করতে পারে এবং রোজা রাখতে পারে আমরা সেই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবো। সেলিম ওসামন বলেন, প্রতিবছরই ব্যবসায়ীরা সহযোগিতা করছেন আমার মাধ্যমে সহযোগিতা আসছে। এবারও আমরা বাজেট করেছি। এবারও আমরা ২৫ লাখ টাকা দিবো কমিউনিটি পুলিশের জন্য। যাতে করে মানুষকে সেবা দেয়ার পাশপাশি কিছু কমিউনিটি পুলিশ নিয়োগ করে তাদের সংসার চালানোর ব্যবস্থা করা যায়।
গোপনীয়তা নীতি | এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।